টিঙ্কার বেলের টিঙ্কারি

টিঙ্কার বেল- আ লিটল ফেয়ারী এনিমেটেড মুভি যাদের পছন্দ তাদের মধ্যে টিঙ্কার বেলকে চেনেনা, এমন লোক বোধহয় কমই আছে! জনপ্রিয় এনিমেশন ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে একটি হলো টিঙ্কার বেল। ১৯০৪ সালে, জে.এম.বেরি নির্মিত মঞ্চ নাটক পিটার প্যান এর মধ্য দিয়ে এই চরিত্রটির সৃষ্টি। পরে ১৯১১ সালে সেটার উপন্যাসরূপ ‘পিটার এন্ড উইন্ডি’তে ও স্থান পায় এই চরিত্রটি। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে ডিজনি ওয়াল্ট পিকচারস থেকে পিটার প্যান নামে একটি এনিমেটেড মুভি নির্মাণ করা হয়। সেখানে এক কমন ফেয়ারী হিসেবেই চরিত্রটির চিত্রায়ন হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয় এই টিঙ্কার বেলকে নিয়ে। প্রায় ২৫২টি স্টোরি লিখা হয় এ নিয়ে। যা দিয়ে নির্মাণ করা হয় প্রায় ডজনখানেকের মত মুভি। প্রথমদিকে টিঙ্কার বেল চরিত্রটি ছিলো বেশ সাদাসিধে। পরবর্তীতে এটাকে বেশ ফিকশন করা হয়। যার ফলে বেড়ে যায় এর জনপ্রিয়তাও। এই টিঙ্কার বেলকে বিশ্ববাসীর কাছে আলাদারূপে উপস্থাপন করে ডিজনি, ২০০৮ সালে তাদের নির্মিত চলচ্চিত্র থ্রিডি এনিমেশন টিঙ্কার বেলের মাধ্যমে। এই সিরিজের মোট মুভির সংখ্যা ছয়টি। প্রত্যেকটা পর্বে দেখানো হয়েছে ছোট্ট পরী টিঙ্কার বেল আর তার বন্ধুদের এডভেঞ্চারের দারুণ সব গল্প! টিঙ্কার বেল এক ছোট্ট পরী যার জন্ম হয়েছে একটি শিশুর হাসি আর সাদা ড্যান্ডেলিওন বীজ থেকে। তারপর তাকে নিয়ে আসা হয় পিক্সি হলো বা পরীদের রাজ্যে, যেটা আছে নেভারল্যান্ডে। সেখানে পৌছানোর পর ফেয়ারী রাণী ক্যারেলিওন তার জাদুকরী প্রতিভা নির্ণয়ের জন্য তার সামনে কিছু জিনিস উপস্থাপন করে। ছোট্ট বেল যখন তার মেধা খোঁজার জন্য একে একে প্রতিটি বস্তু স্পর্শ করে সবকিছুই তার থেকে সরে যায়, থেকে যায় কেবল হাতুড়ি। আর তাই টিঙ্কার বেল নির্বাচিত হয় মেরামতকারী পরী হিসেবে। পিক্সি হলোতে যখন টিঙ্কারের আগমন ঘটে তখন ছিলো বসন্তের প্রাক্কাল। পরীরা মেইনল্যান্ডে (পৃথিবী) বসন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। অন্য পরীদের থেকে মেইনল্যান্ড(পৃথিবী) এর গল্প শুনতে শুনতে টিঙ্কার বেল বেশ উৎসাহী হয়ে ওঠে সেখানে যাওয়ার জন্য।

 টিঙ্কার বেল ফিগার সেটটি কিনতে ছবিতে ক্লিক করুন

কিন্তু টিঙ্কারের আলাদা কোনো জাদুকরী প্রতিভা না থাকায় সে যাওয়ার অনুমতি পায়না। কিন্তু পুরোনো ভাঙ্গাচোরা জিনিসের মধ্যে পরে থাকা মেরামতকারী পরী হিসেবে তার নিজেকে একদমই পছন্দ নয়। তাই সে প্রতিভাধর পরীদের শরণাপন্ন হয়। তাদের সাহায্য চায় যাতে করে তারা তাদের ম্যাজিকাল ট্যালেন্ট তাকে শিখিয়ে দেয়। অবশেষে তার অদম্য ইচ্ছার জন্যে অন্য পরীরা তাদের নিজেদের প্রতিভা টিঙ্কারকে শেখাতে রাজী হয়। কিন্তু বেচারি টিঙ্কার বেল, সে কোনোটাতে তো দক্ষতা অর্জন করতে পারেই না, সাথে বেশ একটা তুলকালাম কান্ড বাধিয়ে ফেলে। যার ফলে বসন্তের সব প্রস্তুতি ভেস্তে যায়। সে যখন দুঃখী মনে তার কামরায় নিজের ভুলচুক নিয়ে ভাবছিলো, ঠিক তখন তার নজর পরে কিছু ‘লস্ট থিংস’ (হারানো জিনিস) এর উপর যেগুলো সে কুড়িয়ে পেয়েছিলো। তারপর সেগুলো দিয়েই সে এমন কিছু তৈরি করে যা দিয়ে বেশ অল্প সময়েই সব পরীরা মিলে আবার বসন্তের প্রস্তুতি শেষ করে ফেলে। হারানো জিনিস দিয়ে টিঙ্কার বেল আরো তৈরি করে চমৎকার এক ড্যান্সিং ফেয়ারী। রাণী ক্যারেলিওন তার কাজে বেশ খুশি হয়ে তাকে মেইনল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি দেন এবং সাথে দিয়ে দেন সেই ড্যান্সিং ফেয়ারী, যেটা হয়তো পৃথিবীতে কোনো শিশুর প্রয়োজন। অবশেষে টিঙ্কার বেলের স্বপ্ন পূরণ হয়, সে আসে পৃথিবীতে; আর উপহার হিসেবে দিয়ে যায় সেই ড্যান্সিং ফেয়ারী। সিরিজের ছয়টি মুভির মধ্যে চারটি মুভি ছিলো চারটি ঋতুকে ঘিরে: ‘টিঙ্কার বেল’ বসন্তকাল নিয়ে, ‘টিঙ্কার বেল এন্ড দ্য লস্ট অটাম’ হেমন্তকাল, ‘টিঙ্কার বেল এন্ড দ্য গ্রেট ফেইরী রেসকিউ’ গ্রীষ্মকাল এবং সিক্রেট অব দ্য উইংস ছিলো শীতকালকে ঘিরে।

লেখকঃ তানজীন নুসরাত

Share:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

0

TOP

Call

X